রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীতে গভীর রাতে মাদক কারবারির স্ত্রীর ঘরে ধরা পড়া পুলিশের সেই এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার নাম সোহেল রানা। তিনি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নগরের সাতবাড়িয়া মহল্লায় এক নারীর ঘরে এএসআই সোহেল রানাকে পেয়ে আটকে রাখেন স্থানীয়রা। এ সময় তাকে লাঠিপেটা করে থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে মতিহার থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এএসআই সোহেল রানা আরএমপির চন্দ্রিমা থানায় কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরের সাতবাড়িয়া মহল্লার এক নারীর ঘর থেকে স্থানীয়রা সোহেল রানা নামের ওই এএসআইকে আটক করে। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে লাঠিপেটা করা হয়। মারধর করা হয় ওই নারীকেও। এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা ওই নারী ও এএসআইকে নানাভাবে জেরা করছে। জেরার ফাঁকে ফাঁকে লাঠি দিয়ে পেটানোও হচ্ছে ওই পুলিশ সদস্যকে। ওই নারীকে এ সময় বলতে দেখা যায়, ‘প্রচুর মেরেছে, প্রচুর।’ আর এএসআই সোহেল রানাকে বলতে দেখা যায়, ‘আমি কলমা করে বিয়ে করেছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন এএসআই সোহেল রানা। তাকে ঘরে আটকে রেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। অল্প বয়সী কয়েকজন লাঠি দিয়ে এএসআইকে পেটায়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, ‘রাতে ওই নারীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে এনে এএসআই সোহেল রানাকে থানা হেফাজতে রাখা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করে। তখন তাকে চন্দ্রিমা থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে এএসআই সোহেল পুলিশ লাইন্সে চলে যান।’
আরএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এএসআই সোহেলকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করার পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত হবে। তারপর সে অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’