লায়ন চৌধুরী আনোয়ারুল আজিম,সময়ের পথ,আনোয়ারা প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে মিঠাপানি কমে পানিতে লবনাক্ত বেড়ে যাওয়ায় আনোয়ারা উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এসব ইউনিয়নের ৩৬৭৫ হেক্টর জমিতে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ছয় ইউনিয়নে ৩৬৭৫ হেক্টর জমিতে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কর্ণফুলী নদীতে মিঠাপানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি পানিতে লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ মৌসুমে অন্ততঃ ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।উপজেলার হাইলধরে ৯১৫ হেক্টর, চাতরী ইউনিয়নে ৬২০ হেক্টর, পরৈকোড়া ইউনিয়ন ৪৫৫ হেক্টর, বারখাইন ইউনিয়নে ৭০০ হেক্টর, বরুমচড়া ইউনিয়নে ৬৬৫ হেক্টর এবং আনোয়ারা সদর ইউনিয়নে ৩২০ হেক্টর মিলিয়ে ৩৬৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এসব এলাকার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ওই সূত্র আরও জানায়, আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়ায় স্থাপিত দেশের প্রথম হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের মুখ বন্ধ করলে কর্ণফুলী নদী থেকে ইছামতি খাল হয়ে মিঠা পানি প্রবেশ করলে আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর, চাতরী, পরৈকোড়া, বারখাইন, বরুমচড়া ও আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের চাষিরা সরাসরি তুলে চাষাবাদ করেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ড্যামের মুখ বন্ধ করলেও কর্ণফুলী নদী থেকে লোনা পানি প্রবেশ করছে। আর এতে করে ক্রমশ কমে আসছে কয়েকটি ইউনিয়নের বোরো আবাদ।
কৃষি বিভাগের লোকজন জানান, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঝর্ণা হচ্ছে মিঠা পানির উৎস। কিন্তু গত ২-৩ বছর ধরে বৃষ্টি কম হওয়ার ফলে কর্ণফুলী নদীতে মিঠা পানি কমে আসছে। আর এ কারণে কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত লবনাক্ত পানি বেশী থাকে। এর বাইরে ওয়াসাসহ নগরের বিভিন্ন কলকারখানা মিঠা পানি তুলে নেওয়ার কারণে নদীতে মিঠা পানির স্তর কমে আসছে। আর এর প্রভাব পড়ছে আনোয়ারার বিভিন্ন শাখানদীতে। ফলে সরাসরি বোরো আবাদে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন- বিএডিসি সূত্র জানায়, আগে বাকখাইন স্লুইস গেট আটকিয়ে এবং মিঠা পানি সংরক্ষণ করে আনোয়ারায় চাষাবাদ করা হতো। কয়েক বছর ধরে ওই স্লুইস গেটটিও খোলা। ফলে চাষাবাদ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আর এ কারণে উপজেলায় ৪০-৫০টি এলএলপি স্কীম বসছে না। এর বাইরে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ২৭টি খালের মধ্যে ২০টি খালের সংস্কার দরকার। এগুলো সংস্কার করা গেলে তাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বোরো আবাদে।
বারখাইনের চাষি নুরুল ইসলাম বলেন, ছোট খালেও লবন পানি প্রবেশ করছে তাই গত দুই বছর ধরে বোরো আবাদ করতে পারছিনা। এভাবে চলতে থাকলে আর্থিক সংকটসহ সীমাহীন অসুবিধায় পড়তে হবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, কর্ণফুলী নদীতে লবনাক্ততার কারণ ছয়টি ইউনিয়নে বোরো আবাদ কমে আসচে। স্লুইস গেট সংস্কার ও খাল খননের মধ্য দিয়ে এ সমস্যা সমাধান অনেকটা সম্ভব।
আনোয়ারা কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, খালে লবন পানি প্রবেশ করায় আনোয়ারা উপজেলার ছয় ইউনিয়নের ৭০০-৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এরপরও আমরা চাষিদের মধ্যে লবন সহিষ্ণু ব্রি-৬৭, ব্রি-৯৭, ব্রি-৯৯, বীণা-১০ জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।